নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানাধীন এলাকার ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলামকে গুরুতর জখম করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা মামলার প্রধান আসামি মোঃ আউয়াল হাওলাদার (৪০)’কে গাজীপুর জেলার গাছা থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩ ও র্যাব-১ এর যৌথ আভিযানিক দল।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের জন্য র্যাবের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত আছে। এছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে র্যাব সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ ও র্যাব-১ এর যৌথ আভিযানিক দল গাজীপুর জেলার গাছা থানাধীন মালেকের বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রবিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানাধীন বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলামকে গুরুতর জখম করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা মামলার প্রধান আসামি মোঃ আউয়াল হাওলাদার (৪০), পিতাঃ আব্দুর রহমান হাওলাদার, সাং-নতুন চর জাহাপুর, থানাঃ বাবুগঞ্জ, জেলাঃ বরিশাল’কে ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ ১৭০৫ ঘটিকায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানাধীন আগরপুর গ্রামে গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ আনুমানিক ১৯৩০ ঘটিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাসির রায় কে কেন্দ্র করে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। মিষ্টি বিতরণ কালীন সময়ে ছাত্র দলের দুই গ্রুপের মধ্যে তর্কবির্তকের এক পর্যায় তাদের মাঝে মারামারির সৃষ্টি হয়। পূর্ব শত্রুুতার জের ধরে ভিকটিম রবিউল ও ধৃত আসামি এবং তার সহযোগীদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল। ধৃত আসামি ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে খুন ও জখম করার সুযোগ খুঁজিতে থাকে। সেই সুযোগে ধৃত আসামি ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র সুইচ গিয়ার, চাকু, ছোরা, লাঠিশোটা, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রধান আসামি তার পিঠে মেরুদন্ডের পাশে একটি কোপ মারে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে আশেপাশের লোকজন ভিকটিমকে রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলের পাশে হালিমা মান্নান মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এ্যাম্বুলেন্স যোগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিবিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করে। উক্ত ঘটনায় বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হলে র্যাব-৩ কর্তৃক আসামির অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব-১ এর সহায়তায় উক্ত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত বাকী আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গাজীপুর জেলার বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।